কক্সবাজারের হোটেল প্রাসাদ প্যারাডাইসের অবৈধ দখলসহ শতাধিক স্থাপনা উচ্ছেদ
বিশেষ প্রতিবেদক:
কক্সবাজার শহরের হোটেল-মোটেল জোনের স্টার মানের আবাসিক হোটেল প্রাসাদ প্যারাডাইসের গুদাম ঘরসহ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) বিকালে সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শাহরিয়ার মুক্তারের নেতৃত্বে অভিযানে এসব স্থাপনাগুলো গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। হোটেল মোটেল জোনের ১ নং সড়কের ১১,১২,১৩ নং প্লটের অংশ বিশেষ দখল কর স্থানীয় বেশ কিছু প্রভাবশালী লোক অবৈধ বসতবাড়ি, গুদামঘর ইত্যাদি স্থাপনা নির্মাণ করে ভাড়া দিয়েছিল। বিশেষ করে প্রাসাদ প্যারাডাইসের কর্তৃপক্ষ তাদের সীমানা দেয়ালের পূর্বদিকে ভেঙ্গে বিরাট একটি গুদাম ঘর তৈরি করে, যা দেখে অভিযান কারীরা হতবাক বনে যান। এর আগে বুধবার (১৩ নভেম্বর) সুগন্ধা পয়েন্টে বাতিলকৃত পাঁচটি প্লটের ৫ একর জমি থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে জেলা প্রশাসন। সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ শাহরিয়ার মুক্তার জানান, বুধবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সুগন্ধা পয়েন্টে পাঁচটি বাতিলকৃত প্লটে এই অভিযান চলে। এতে বড় ধরণের ১০টি স্থাপনা, আর ২০টি মতো ঝুপড়ি উচ্ছেদ করা হয়। এ সময় ৩ জনকে ছয় হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ওই দিন মাইকিং করে নিজ দায়িত্বে মালামাল সরিয়ে নিতে বলার পরও নির্দেশ মানেননি দখলদাররা। একারণে বৃহস্পতিবার বিকালে অভিযান চালিয়ে শতাধিক ছোট বড় স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। সরকারি জমি উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান এসিল্যান্ড মোঃ শাহরিয়ার মুক্তার। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আশরাফুল আফসার জানান, হোটেল-মোটেল জোনসহ পুরো কলাতলীতে কোন ধরনের অবৈধ স্থাপনা থাকবে না। কৌশলে যারা মামলা দিয়ে সরকারি জমি দখল করতে চাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।এডিসি বলেন, একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে সরকারি জমিতে অবৈধভাবে ঝুপড়ির স্থাপনা তৈরি করে বাণিজ্য করছে দীর্ঘদিনের অভিযোগ।প্রশাসন এসব দখলবাজদের চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে অভিযান শুরু হয়েছে। ক্রমান্বয়ে সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে বলে জানান ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক।

কক্সবাজারের হোটেল প্রাসাদ প্যারাডাইসের অবৈধ দখলসহ শতাধিক স্থাপনা উচ্ছেদ

টেকনাফে ১১ কোটি টাকা ব্যায়ে ৩টি সাইক্লোন শেল্টারের কাজ চলছে ধীরগতিতে
সরকারী প্রতিনিধি ছাড়া ঠিকাদারদের ইচ্ছেমতো চলছে নির্মান কাজ
মোঃ আশেক উল্লাহ ফারুকী,টেকনাফ
টেকনাফে ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে বিশ্বব্যাংক (এডিবির) অর্থাযনে ১০ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা ব্যায়ে ৩টি সাইক্লোন শেল্টার কাম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মিত হচ্ছে। চলতি বছর জানুয়ারী মাসে একযোগে শুরু হলেও কাজের অগ্রগতি ও মাননিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আর কোন ধরনের সরকারী প্রতিনিধি ছাড়া ঠিকাদারের ইচ্ছে মতো যেনতেন ভাবে কাজ করার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। হ্নীলা ইউনিয়নের উলুচামরী, বার্মিজ ও সমূদ্র উপকূলীয় ইউনিয়নের বাহাড়ছড়া বড়ডেইল এ ৩টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় বনাম সাইক্লোন সেল্টারে জনগন ব্যবহার করবে। আগামী ২০২০ সালের জুন মাসের আগেই ৩টি সাইক্লোন সেল্টারের নির্মান কাজ শেষ করার কথা। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর টেকনাফ (এল.জিইডি) তত্ববধানে এবং ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তৌহিদ কনসট্রাকশান এ উন্নয়ন কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। কাজের অগ্রগতি ২০% শতাংশ বলে জানা যায়। উলুচামরী সাইক্লোন সেল্টার কাম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মিত কাজ সরেজমিন পরিদর্শন করে জানা যায়, নির্মান কাজের অগ্রগতি শম্বুক গতিতে এবং সংশ্লিষ্ঠ দপ্তরের জনবল সংকটের কারণে তদারকীর অভাব এবং নির্মান সামগ্রী ব্যবহার নিম্মমানের বলে স্থানীয় ভাবে অভিযোগ উঠেছে। শুধুমাত্র ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব প্রকৌশলীর মাধ্যমে এ ৩টি সাইক্লোন সেল্টারের নির্মান কাজ চললে ও কাজের সিডিওয়েল অনুযায়ী স্ব্চ্ছত্ার সাথে কাজ করার নিয়ম থাকলে ও সংশ্লিষ্ঠরা এর প্রতি কোন প্রকার তোয়াককা করছে না। চলতি ২০১৯-২০২০ অর্থ বছর জুনের আগেই নির্ধারিত সময়ে এ কাজ সম্পূর্ণ হবে কিনা কাজের শম্বুকগতি নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। উল্লেখ্য টেকনাফ উপজেলা প্রকৌশল (এল.জিইডি) জনবল সংকট এখন চরমে। সমপ্রতি উপজেলা প্রকৌশলী অন্যত্র বদলী হয়েছেন। মাত্র একজন উপ-সরকারী প্রকৌশলী কর্মরত থাকলে ও তিনি প্রায় সময় অসুস্থ থাকেন। তাকে দিয়েই টেকনাফ উপজেলার উন্নয়ন কাজ কিভাবে হবে এ নিয়ে সচেতন মহলের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। টেকনাফ একটি সীমান্ত পর্যটন এলাকা এবং এখানে প্রতি অর্থ বছরে দৃশ্য মান উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়িত হয়। উপজেলা প্রকৌশলী সম্প্রতি বদলী হলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নী। হ্নীলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাশেদ মোহাম্মদ আলী ফোনে এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে, তিনি এ বিষয়ে দেখবেন বলে জানান।

টেকনাফে ১১ কোটি টাকা ব্যায়ে ৩টি সাইক্লোন শেল্টারের কাজ চলছে ধীরগতিতে