কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ)‘র ৪০০০ কোটি টাকা ব্যায়ে ৯ মেগা প্রকল্প,
পাল্টে যাবে কক্সবাজার জেলার যোগাযোগ নেটওয়ার্কের চিত্র
(এক) লিংকরোড হতে টেকনাফ পর্যন্ত রাস্তার কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।
(দুই) লিংকরোড হতে কলাতলি মোড় পর্যন্ত প্রধান সড়ক চার লেনে উন্নিতকরণ।
(তিন) ২৭০০ কোটি টাকা ব্যায়ে খুরুশকুল হতে চকরিয়ার ঈদমনি পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ।
(চার) ইয়াংছা-মানিকপুর-শান্তিবাজার পর্যন্ত সড়কটি ১৮ ফুটে উন্নিতকরণ।
(পাঁচ) মহেশখালী জনতাবাজার হতে গোরকঘাটা বাজার পর্যন্ত প্রধান সড়কটি ১৮ ফুটে উন্নিতকরণ।
(ছয়) একতাবাজার হতে মগনামা ঘাট পর্যন্ত সড়কটি ৩৪ ফুটে উন্নিতকরণ।
(সাত) টেকনাফ হতে শাহপরীর দ্বীপ পর্যন্ত সড়কটি ৬৭ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন হবে।
(আট) রামু হতে মরিচ্যা বাজার পর্যন্ত সড়কটি ৩৪ ফুটে উন্নিতকরণ, ও
(নয়) খুরুশকুল থেকে ঈদগাঁও পর্যন্ত সড়কটি ১৮ ফুটে উন্নিতকরণ।
স.ম.ইকবাল বাহার চৌধুরীঃ
দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজার জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থার ভঙ্গুর অবস্থা থেকে পরিত্রানের আভাস মিলেছে ইতিমধ্যে। সওজ‘র সড়ক বিভাগের বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বেশ কিছু মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে এ ভঙ্গুর যোগযোগ নেটওয়ার্কের চিত্র পাল্টানের কাজটি করে যাচ্ছেন এমনটি জানা গেছে। কক্সবাজারে তিনি যোগদানের পর পর্যটন নগরী কক্সবাজারের যোগাযোগের বেহাল দশা দেখে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমার মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানান সুত্রটি। যোগদানের এক বছরের ভিতর ইতিমধ্যে মেগা প্রকল্পের কাজ অনেকটা এগিয়ে নিয়েছেন তিনি এমনটি জানালেন সড়ক বিভাগ সুত্রে। জানা যায়, সড়ক ও জনপথ (সওজ) কক্সবাজার এর সড়ক বিভাগ জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংস্কার, পুণঃনির্মান ও প্রসস্থকরণের লক্ষে মেগা প্রকল্প গ্রহন করেছে। প্রায় ৪০০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৯টি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে জেলার যোগাযোগ নেটওয়ার্কের চিত্র পাল্টে যাবে এমনটি ধারনা করছে সচেতন মহল। বর্তমান উন্নয়নের সরকার কক্সবাজারকে এমনিতে আলাদা ভাবে গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন বড় বড় প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করছে। তার সাথে কক্সবাজার (সওজ)এর সড়ক বিভাগের নেয়া ৯টি প্রকল্পের মধ্যে ইতিমধ্যে ৫টি প্রকল্প একনেকে পাস হয়েছে এবং টেন্ডার হয়েছে। আর ৪টি প্রকল্প একনেকের আগামী যেকোন বৈঠকে পাস হবার সমুহ সম্ভাবনা রয়েছে। আর এ ৯টি প্রকল্প হচ্ছে (এক) লিংকরোড হতে টেকনাফ পর্যন্ত রাস্তার কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। প্রকল্পটির বাস্তবায়ন ব্যয় হচ্ছে ৪৫৮ কোটি টাকা। (দুই) লিংকরোড হতে কলাতলি মোড় পর্যন্ত প্রধান সড়ক চার লেনে উন্নিত করণের কাজ একনেকে পাশ হয়েছে। এবং এ প্রকল্পের টেন্ডারও ড্র করা হয়েছে। ২৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে আগামী দু‘এক মাসের মধ্যে এর কাজ শুরু হবে। (তিন) ২৭০০ কোটি টাকা ব্যায়ে খুরুশকুল থেকে চকরিয়ার ঈদমনি পর্যন্ত সড়ক যে কোন সময় একনেকে পাশ হবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম সড়ক পথে ৫১ কিঃমিঃ দুরত্ব কমে যাবে।(চার)ইয়াংছা-মানিকপুর-শান্তিবাজার পর্যন্ত সড়কটি যে কোন সময় একনেকে পাশ হবে। ৫৬ কোটি টাকা ব্যায়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হবে।(পাঁচ) মহেশখালী জনতাবাজার হতে গোরকঘাটা বাজার পর্যন্ত প্রধান সড়কটি ১৮ ফুট প্রসস্থ করে বাস্তবায়ন করা হবে। ৬৫ কোট টাকা ব্যায়ে এ প্রকল্পটির কাজ আগামী ঈদুল আযহার পর পরই শুরু হবে।(ছয়) একতাবাজার হতে মগনামা ঘাট পর্যন্ত সড়কটি ৩৪ ফুট প্রসস্থ করে বাস্তবায়ন হবে। প্রকল্পটি যে কোন আগামী একনেকের বৈঠকে পাস হবার সম্ভাবনা রয়েছে। (সাত) টেকনাফ হতে শাহপরীর দ্বীপ পর্যন্ত সড়কটি ৬৭ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন হবে। (আট) রামু হতে মরিচ্যা বাজার পর্যন্ত সড়কটি ৩৪ ফুটে উন্নিত করা হচ্ছে। ২৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাসতবায়ন হবে। এটি যে কোন সময় একনেকে পাস হবে।(নয়) খুরুশকুল থেকে ঈদগাঁও পর্যন্ত সড়কটি ১৮ ফুটে উন্নিত করে বাস্তবায়ন হবে। ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়েছে। এ নয়টি প্রল্পের মধ্যে ৫টি একনেকে পাশ হয়েছে এবং বাকি ৪টি প্রকল্প ইতিমধ্যে ডিপিপি পাস হয়ে একনেকে পাঠানো হয়েছে। যা খুব শীঘ্রই একনেকের সভায় পাশ হবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তাছাড়া ও সওজ‘র কক্সবাজার অফিসের জন্য কেনা হচ্ছে ১টি রেকার, ১টি পেলোদা, ১টি ড্রাম ট্রাক, গ্রেডার ও স্কেলেভেটর সহ একাধিক অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি। সওজ‘র সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (চঃ দাঃ) পিন্টু চাকমা কক্সবাজারে যোগদানের পর গত এক বছরে এ প্রকল্পগুলো পরিকল্পনা গ্রহন ও বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন নিরলস ভাবে। তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় কক্সবাজারের যোগাযোগ ক্ষেত্রে আমুল পরিবর্তনে সৃষ্টি হয়েছে উন্নয়নের দ্বার। সচেতন মহল বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমার কক্সবাজারের প্রতি যে কাজ করে যাচ্ছেন তা কক্সবাজারের ইতিহাসে স্মরনীয় হয়ে থাকবে বলে জানান। তারা আশা প্রকাশ করেন গৃহীত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে তিনি দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহন করে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজার সওজ‘র নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা বলেন, আমি চেষ্টা করছি কক্সবাজারে জন্য সড়ক বিভাগে উন্নয়নে প্রচুর পরিকল্পনা আছে। বাস্তবায়নাধীন ও গৃহীত পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন হলে কক্সবাজারের সড়ক নেটওয়াক একটি উন্নতমানের নেটওয়ার্কে পরিনত হবে। আমার যোগদানের এক বছরের মধ্যে আমার সাধ্যমত চেষ্টা করে যাচ্ছি পর্যটন জেলা কক্সবাজারকে সড়ক যোগাযোগে একটি রোল মডেল সৃষ্টি করতে। এর জন্য সবাইকে ধৈর্য সহকারে সহযোগিতা করতে হবে। তাহলে আমরা সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় কক্সবাজারকে একটি স্বপ্নের জেলা হিসাবে প্রতিষ্টিত করতে সক্ষম হবো ইনশাল্লাহ।

পাল্টে যাবে কক্সবাজার জেলার যোগাযোগ নেটওয়ার্কের চিত্র