1. newsiqbalcox@gmail.com : Somoy Bangla : Somoy Bangla
বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ০৭:৪৫ অপরাহ্ন

মহেশখালীতে জনপ্রতিনিধিদের ফাঁসাতে মিথ্যার আশ্রয় বনবিভাগের!?

ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৭ মে, ২০২৩
  • ১৬৭ ভিউ সময়

মহেশখালীতে জনপ্রতিনিধিদের ফ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

জনপ্রতিনিধিদের ফাঁসাতে মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছেন মহেশখালীর বনবিভাগ এমন অভিযোগ উঠেছে। নিজেদের নার্সারির কাজে যে জায়গা থেকে বনবিভাগ মাটি নিয়েছে সে জায়গাটাকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি বলে চালিয়ে দিয়ে জঘন্য মিথ্যাচার করেছেন বলে জানা যায়। এ নিয়ে গত ৩ রা মে দৈনিক বাঁকখালী পত্রিকায় পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রমূলক সংবাদ পরিবেশিত হয়েছে বলে জানান শাপলাপুর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের মেম্বার আব্দু ছালাম। পাহাড়ে বসবাসরত জনগোষ্ঠীর ওপর বনবিভাগের নানা ধরনের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে স্থানীয়রা মেম্বার আব্দু ছালাম ও মহিলা মেম্বার দিলু আরা বেগমকে অবহিত করেন। এভাবে হয়রানি না করার জন্য স্থানীয় মেম্বার বিট অফিসারকে অনুরোধ জানান ।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে কোন প্রকার পূর্বঘোষণা ছাড়া পাহাড়ে ঝোপঝাড় পরিষ্কারের অজুহাতে জীবিকার উৎস পানবরজ ও ফলদ গাছ জ্বালিয়ে দেয় ২৯ এপ্রিল, তা জ্বলতে থাকে কয়েকদিন। এছাড়াও সরকারি সামাজিক বনায়নের গাছও আগুনে পুড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে বিট অফিসারের বিরুদ্ধে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয়রা বনবিভাগের চাঁদাবাজি ও হয়রানির বিরুদ্ধে মানববন্ধন করলে এতে এলাকাবাসীর সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে উপস্থিত হয়ে তাদের ওপর হয়রানি বন্ধ করার দাবি জানান ইউপি সদস্য আব্দু ছালাম ও দিলু আরা বেগম। এরপর থেকে শাপলাপুর বনবিটের বিট অফিসার নুরে আলম নাহিদ ঐ মেম্বারদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার হুমকি দেয় বলে অভিযোগ করেন তারা। গত ৩ মে দৈনিক বাঁকখালীতে ছবি সহকারে শাপলাপুর বনবিভাগ নিয়ে পরিবেশিত সংবাদটি যে বিট অফিসারের পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র তা সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কতৃপক্ষ সরজমিন তদন্তে আসলে প্রমাণ পাবেন এমনই দাবি মেম্বারদের। মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে রেঞ্জ কর্মকর্তা মোহাম্মদ জুলফিকার আলি কর্মসৃজন প্রকল্পের রাস্তা মেরামতের কাজ বন্ধ করে দেয় বলে জানান স্থানীয় মেম্বার।

তাই বিষয়টি গুরুত্বসহকারে কতৃপক্ষ দেখতে আসলে নিজের অপরাধ আড়াল করতে বিট অফিসার কি কি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছেন তার বাস্তব প্রমাণ পাবে। বনবিভাগের দেয়া আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত কাঁঠাল বাগানের মালিক মুহাম্মদ রশি জানান, আমার বসত ভিটার কাছে সামাজিক বনায়নের অনেকগুলো আকাশমণি গাছ ছিলো। দিনদুপুরে ও রাতের অন্ধকারে ইতিপূর্বে গাছ পাচার করে দেয় বনবিভাগের লোকজন। বর্তমানে বনে তেমন গাছ না থাকায় বিক্রি করতে না পেরে মানুষের বসত ভিটায় ও উপার্জনের পানবরজ ও ফলদ গাছ জ্বালিয়ে দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। সরজমিন তথ্য সংগ্রহে জানা যায়, শাপলাপুর বনবিটের বিট অফিসার যোগদানের পর থেকে পাহাড়ের সমতলে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসরত জনগোষ্ঠীর কাছ থেকে কৌশলে চাঁদাবাজি করেন বলে জানান ভুক্তভোগী অনেকে। এবিষয়ে বিট অফিসার নুরে আলম নাহিদ জানান-এটা তার বিরুদ্ধে স্থানীয় মেম্বারের ষড়যন্ত্র, টাকা নেওয়ার বিষয়টি অপপ্রচার। এছাড়া পাহাড়ে আগুন নিভাতে নিজেরাও চেষ্টা করেছেন বলে জানান তিনি। কে আগুন দিয়েছে তা জানে না এমনটা দাবি করেন বিট অফিসার।

শাপলাপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ জনবসতি পাহাড়ি সমতল ভূমিতে, এমনকি জীবিকা নির্বাহের ক্ষেত্রেও পাহাড়ের ওপর নির্ভরশীল। পানের বরজ, ধান চাষ, বিভিন্ন প্রজাতির ক্ষেতখামার থেকে দীর্ঘদিন যাবত উপার্জন করে যাচ্ছেন শাপলাপুরবাসী।ভৌগোলিক কারণে বসবাসের এমন পরিবেশ হওয়ার কারণেই কোন প্রকার বিকল্প উপার্জনক্ষেত্র না থাকায় অনেকটা বাধ্য হয়ে পাহাড়ি সমতল ভূমিতে কৃষিকর্ম করে থাকেন স্থানীয়রা। পাহাড়ি ১২ নং মৌজার অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় বিট অফিসারের পরিবর্তনের সাথে সাথে পাহাড়ি সমতলে বসবাসরত ও জীবিকা নির্বাহে নিয়োজিতদের ওপর চাঁদাবাজির ধরনও পাল্টে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে । বিট অফিসারের যখন যেমন ইচ্ছা তেমনভাবে জিম্মি দশার মধ্যে বসবাস করতে হয়, টাকা দিলে পাহাড় কেটে বহুতল ভবন নির্মাণেও থাকেনা কোন বাঁধা। অভিযোগ বিষয়ে রেঞ্জ কর্মকর্তা খান জুলফিকার আলি’র দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি জানান – স্থানীয় মেম্বার আব্দু ছালাম ও মহিলা মেম্বার দিলু আরা বেগম দুজনেই পাহাড় কাটায় সম্পৃক্ত, কিছু দিন পূর্বে দিলু আরা মেম্বারের গাছ জব্দ করেছেন বলেও জানান তিনি। তবে কে বা কারা বনে আগুন লাগিয়েছে তা জানেন না। পাহাড় কাটা নিয়ে ৩ তারিখের পরিবেশিত সংবাদের ছবি নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি সদুত্তর দেয়নি।

সরজমিন পরিদর্শনে অনেক বহুতল ভবনের সত্যতা মিলে। তবে টাকা দিতে না পারলে অসহায় হতদরিদ্র পরিবারের ঘরের ছাউনি পরিবর্তনও অনেক সময় অকল্পনীয়। পলিথিনের বেড়ায় নির্মিত ঘর মাটির ঘর করতেও দিতে হয় দাবিকৃত টাকা। দিতে না পারলে গরীবের মাথা গোঁজার ঠাঁই নিমিষেই আইনি গ্যাড়াকলে পিষ্ট হয়। অথচ যুগযুগ ধরে মাথা উঁচু করে দাড়িয়ে আছে ধনীদের অট্টালিকা। বনবিভাগের এমন বৈষম্য নিয়ে কেউ প্রতিবাদ করলেই মামলা, এমনকি যে কোন সময় যে কাউকে ফাঁসাতে সামান্য কিছুতে খালি কাগজে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এভাবেই চলছে বনে বনবিভাগের ইচ্ছে মতো রাজত্ব, সচেতন মহল দেখেও নিরবে সহ্য করে যাচ্ছেন। কারণ প্রতিবাদ করলেই আইনি হাতের বে-আইনী মার, তাই বিষয়েগুলো উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন স্থানীয়রা।

শেয়ার করুন

আরো বিভন্ন নিউজ দেখুন
© All rights reserved © 2021 somoybanglatv.com
Theme Customization By Monsur Alam