1. newsiqbalcox@gmail.com : Somoy Bangla : Somoy Bangla
বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ০৬:৪৯ অপরাহ্ন

রাজশাহীতে অবৈধভাবে কৃষি জমির মাটি বিক্রির মহোৎসব

ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৩
  • ২২৪ ভিউ সময়

 

রাজশাহী ব্যুরোঃ

 

সম্প্রতি সময় রাজশাহী পুকুর খনন অনেকটাই কমে গেছে। কিন্তু পুকুর খনন কমলেও বেড়েছে কৃষি কৃমি থেকে মাটি বিক্রি। পুকুর খননের জন্য যেমন কৃষি জমির উপর প্রভাব পড়েছে, তেমনি কৃষি জমি থেকে মাটি বিক্রি করায় পুনরায় প্রভাব পড়ছে কৃষির উপরই। এক শ্রেণির প্রভাবশালীরা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে কৃষি জমির মাটি বিক্রি করছেন ইট ভাটাসহ বিভিন্ন স্থানে।

অথচ অনেক কৃষকরা তাদের উচু জমি নিচু করে চাষাবাদের উপযোগি করে তুলতে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেও মাসের পর মাস ঘুরে অনুমতি পাচ্ছেন না। কিন্তু অনুমতি না নিয়ে রাজনৈতিক প্রভাবে খাটিয়ে মাটি বিক্রি চলছে। এমন কি কৃষি জমির মাটি কাটতে গিয়ে ট্রাকে বিদ্যুয়িত হয়ে একজনের মৃত্যর ঘটনাও ঘটছে। তারপরও প্রশাসনের টনক নড়ছে না। যদিও উপজেলা প্রশাসন বলছে তারা অভিযান চালাচ্ছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহীর ৯টি উপজেলার প্রায় সবকটি উপজেলাতেই অবৈধভাবে কৃষি জমির মাটি বিক্রির ব্যবসা চলছে। এক সময় রাজনৈতিক নাম অথবা পদধারি বা ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা কৃষিতে জমিতে অবৈধভাবে পুকুর খননে যেমন মেতে উঠেছিল তারাই এখন কৃষি জমির মাটি বিক্রি মহোৎসবে মেতে উঠেছে। এখন তারা কৌশলে কৃষি জমির মাটি বিক্রি ব্যবসায় নেমে পড়েছে। কৃষকদের সামান্য কিছু টাকা ধরিয়ে দিয়ে জমি থেকে মাটি তুলে বিক্রি করা হচ্ছে পাশর্^বর্তি ইট ভাটায়। এতে এক দিকে যেমন মাটির উর্বরতা হৃস পাচ্ছে, তেমনি এই মাটি বহনের জন্য সরকারের রাস্তা নষ্ট হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে যায়, সবচেয়ে বেশি কৃষি জমির মাটির ব্যবসা চলছে গোদাগাড়ীতে। এই উপজেলায় রয়েছে কয়েকটি সিন্ডিকেট। যারা দিন ও রাতেরআঁধারে জমি থেকে মাটি কেটে ট্রাকে করে বিক্রি করছে। গোদাগাড়ীর টিয়া আলম নামে এক ব্যক্তি মাটি কাটছেন ছয়ঘাটি এলাকায়। তিনি বরেন্দ্র অঞ্চলের মাটি কেটে বিক্রি করছে অবাধে। আব্দুল মতিন নামে অপর ব্যক্তি কৃষি জমির মাটি কেনাবেচার ব্যবসা করছেন রাজাবাড়িতে। টিপু সুলতান বরদমা ও কদমশহর, রাজু মেম্বার টেংরামারি ও চাপাল, গোদাগাড়ীর কমলাপুর এলাকায় কৃষি জমির মাটি খনন করে বিক্রি করছেন স্বপন, ইমন নামে ব্যক্তি করছেন কানাইডাঙ্গা এলাকায়।

ইতোমধ্যে ছয়ঘাটি এলাকায় মাটি বহন করা ট্রাকে বিদ্যুতায়িত হয়ে সজল (২৫) নামে এক যুবক মারা গেছে। ২৯ মার্চ রাত ৮ টার দিকে উপজেলার ছয়ঘাটি এলাকায় নবগঙ্গা ওয়ার্ডের বাবর আলী নামে এক ইউপি সদস্যের মাটিবাহি ট্রাকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এঘটনায় রায়পাড়া এলাকার শামীম হোসেন ও একই এলাকার আজিজুল ইসলাম আহত হয়। এমনকি একজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও বিষয়টির ব্যাপারে মামলা হয়নি। এতো বড় ঘটনার পরও প্রশাসন থামাতে পারেনি কৃষি জমিতে মাটি কাটার বিষয়টি।

এদিকে রাজশাহীর প্রায় দেড় শতাধিক কৃষক তাদের পরিত্যাক্ত জমি নিচু করে আবাদি করার জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেছেন। কিন্তু তাদের এই আবেদনগুলো আলোর মুখ দেখেনি। আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করার জন্য জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বা এসিল্যান্ডের কাছে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু মাসের পর মাস পড়ে থাকলেও এই আবেদনগুলোর ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি ইউএনও বা এসিল্যান্ডরা। এমন কি জেলা প্রশাসকের নিদের্শকেও উইএনও, এসিল্যান্ডরা উপেক্ষা করেছেন।

১৫ বিঘা উচু জমি নিচু করে বোরো চাষ করার জন্য গত ডিসেম্বর মাসে জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেন হরিপুর ইউনিয়নের হাড়ুপুর নবগঙ্গা এলাকার আজিজুল ইসলাম নামে এক কৃষক। তিনি আবেদনে উল্লেখ করেন, তার ১৫ থেকে ২০ বিঘা জমি দীর্ঘ ২৫ থেকে ৩০ বছর যাবৎ পড়ে আছে। সেখানে পানি সেচ দেয়ার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় জমিগুলোতে কোনো ফসল হয় না। এ জন্য জমি নিচু করে চাষাবাদের জন্য উপযোগি করতে আবেদন করেন তিনি। এই আবেদনটি গত ৫ জানুয়ারী জেলা প্রশাসক গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে পাঠায় তদন্তের জন্য। কিন্তু এই আবেদন আর আলোর মুখ দেখেনি। তদন্তও হয়নি

অভিযোগ করে আবেদনকারী আজিজুল ইসলাম বলেন, আমি বৈধভাবে আবেদন করেও জমি নিচু করার অনুমতি পাইনি। কিন্তু অবৈধভাবে আমার জমির পাশেই অনেক ব্যক্তি নিচু বা উচুু জমির মাটি খনন করে বাইরে বিক্রি করছে। তিনি বলেন এই দেশে বৈধ কাজ করতে গেলে বিড়াম্বানায় পড়তে হয়। আর অবৈধভাবে করলে সেই কাজে বাধা আসে না। শুধু আজিজুল ইসলাম নয়, এমন দেড় শতাধিক আবেদন পড়ে আবেদন ইউএনও অফিসে।

এব্যাপারে গোদাগাড়ী উপজেলা এসিল্যান্ড সবুজ হাসান জানান, এমন অনেক আবেদন পড়ে আছে যা দেখা হয় না। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত গোদাগাড়ীতেই ৫০জনের বেশি আবেদনকারী আছে। কারই তদন্ত হয়নি। আর হবে কিনা তাও জানি না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

থানা বা ফাঁড়ির পুলিশকে টাকা দিয়ে এই মাটি বিক্রি করা হচ্ছে। এমন অভিযোগে গোদাগাড়ী প্রেমতলী ফাঁড়ির ইনচার্জ রফিকুল ইসলামের সাথে কথা বলা হলে তিনি বলেন, আমরা প্রতিদিন অভিযান চালাচ্ছি তবুও থামছে না।

এব্যাপারে রাজশাহী অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) শরিফুল ইসলাম বলেন, অনেক কৃষকরা আবেদন করেছেন। আবেদনগুলো উপজেলায় পাঠানোও হয়েছে । কিন্তু কেনো তদন্ত হচ্ছে না তা জানি না। তবে বিষয়টি দেখবো বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

শেয়ার করুন

আরো বিভন্ন নিউজ দেখুন
© All rights reserved © 2021 somoybanglatv.com
Theme Customization By Monsur Alam