1. newsiqbalcox@gmail.com : Somoy Bangla : Somoy Bangla
রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১২:২৩ অপরাহ্ন

আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন-সাবেক দুদক কর্মকর্তা শরীফ উদ্দিন

ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২২
  • ৯০ ভিউ সময়

ডেক্স নিউজঃ

দুদকের চাকরিচ্যুত সেই শরীফ উদ্দিন দুর্নীতির কারণে আমি যাদেরকে আইনের আওতায় এনেছিলাম, তারা এখন আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। চট্টগ্রামে দুদক’র কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন কালে বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে তার অভিযানে তটস্থ থাকতো দুর্নীতিবাজরা। তিনি হচ্ছেন মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন। দুদুকের সাবেক উপ-সহকারী পরিচালক ছিলেন।
চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযান চালিয়ে দুর্নীতিবাজদের মুখোশ উন্মোচন করেছিলেন। তার বিভিন্ন অভিযান নিয়ে সে সময় লিড করতো দেশের মূলধারার গণমাধ্যমগুলো। তবে রহস্যজনকভাবে দুদক তাকেই চাকরিচ্যুত করে। অভিযোগ আছে, প্রভাবশালীদের রোষানলে পড়ে দুদক থেকে চাকরি হারাতে হয় তাকে। এরপর অনেক চেষ্টার পরও চাকরি ফেরত পাননি। এখন চাকরি হারিয়ে ৯ মাস ধরে আর্থিক অনটনে দিনাতিপাত করছেন।

এদিকে নিজের বর্তমান অবস্থা নিয়ে শরীফ উদ্দিন কথা বলেছেন বিজনেস বাংলাদেশ এর সঙ্গে। এ সময় তিনি কষ্টে জীবনযাপনের কথা তুলে ধরেন। শরীফ উদ্দিন বলেন, ‘চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আমাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। এরপর থেকেই চাকরি ফিরে পেতে অনেকের কাছে গেলাম। অনেকেই আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। চাকরি নেই ৯ মাস হয়ে গেছে। বাচ্চারা জিজ্ঞেস করে, বাবা তুমি অফিসে যাচ্ছো না কেন। আমি তখন তাদের কোনো উত্তর দিতে পারি না।’

তিনি বলেন, আমার বয়স এখন ৩৫। এখন সরকারি চাকরির বয়সও নেই। বেসরকারি চাকরিতে আগের মতো স্পিড নিয়ে জয়েন করাও অনেক কঠিন। বলা চলে পরিবার নিয়ে এখন মানসিক ও আর্থিকভাবে অনেক কষ্টে আছি। দিন শেষে আম্মুর জন্য এক কেজি ফল আনতে পারি না। বাচ্চাদের জন্য আগের মতো চকলেট আনতে পারি না। আমার টেনশনে মা অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। দু’দিন আগেও উনাকে নিয়ে হাসপাতালে যেতে হলো। ডাক্তার বলেছেন টেনশন কমাতে। আমার ভাইবোনেরাও আমাকে নিয়ে চিন্তিত।

এক সময়ের আলোচিত শরীফ বলেন, আমার বাবা রেলওয়েতে চাকরি করতেন। সেখানে কিছু পেনশনের টাকা আমার ভাগে পড়ছিল। এখন সেগুলো খরচ করছি। আম্মার ভাগেরটাও খরচ করছি। কিন্তু সেগুলো দিয়ে আর কতোদিন যাবে। বাচ্চা দুইটা স্কুলে যাচ্ছে। তাদের পেছনেও খরচ আছে।

এখন আগের মতো সামাজিক অনুষ্ঠানে যেতে পারি না। কারণ চাকরি না থাকার বিষয়টি মিডিয়ার কারণে সবাই জানে। কারণ আমি যতই বলি, তাদের অনেকে ভাববে অন্যায় করার কারণে আমার চাকরি গেছে। বিষয়টি আমার পুরো পরিবারকেই পীড়া দিচ্ছে। এছাড়া দুর্নীতির কারণে আমি যাদেরকে আইনের আওতায় এনেছিলাম, তারা এখন আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। আমার কারণেই পোষ্য কোটা থাকার পরও রেলওয়েতে আমার ছোট ভাইয়ের চাকরি আটকে রয়েছে। কারণ রেলওয়েতে থাকা অবস্থায় আমি রেলওয়েরও বিভিন্ন অনিয়ম তুলে আনছিলাম।’

চাকরি ফেরত পেতে এখন কি করছেন, চাকরি ফেরত পেতে আমি হাইকোর্টে রিট করেছি। সেটা এখন আপিল ডিভিশনে আছে। আশা করছি শিগগিরই রায় পাবো। পাশাপাশি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সহানুভূতির দিকে তাকিয়ে আছি। সবচেয়ে বড় কথা গণমানুষের দোয়া আর গণমাধ্যম কর্মীদের সহযোগিতা আমার প্রতি আছে। আশা করছি আমি আবার চাকরি ফেরত পাবো।

দুদক চট্টগ্রামের এক কর্মকর্তা বলেন, শরীফ উদ্দিন একজন চৌকস কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালনের সময় বিভিন্ন রাজনীতিবিদ, প্রভাবশালী ব্যবসায়ী, সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি,, চিকিৎসক নেতাসহ বিভিন্ন পেশার দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে অভিযান চালিয়েছিলেন। মূলত এসব কারণেই তিনি প্রভাবশালীদের রোষানলে পড়েছেন।

তিনি বলেন শরীফের যদি দোষ থাকতো তাহলে তা স্পেসিফিক করতে পারতো। অথবা আগে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিতে পারতো। কিন্তু তার কিছুই করা হয়নি। শুধু দুদকের চাকরিবিধির কথা বলা হচ্ছে। তবে সবকিছুর উপর তো দেশের সংবিধান। সেই সংবিধানের ১৩৫(২) নম্বর অনুচ্ছেদে বলা আছে, ‘অনুরূপ পদে (প্রজাতন্ত্রের অসামরিক পদে) নিযুক্ত কোনো ব্যক্তিকে তার সম্পর্কে প্রস্তাবিত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণের বিরুদ্ধে কারণ দর্শাইবার যুক্তিসঙ্গত সুযোগ দান না করা পর্যন্ত তাহাকে বরখাস্ত, অপসারিত বা পদাবনমিত করা যাইবে না।’

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি দুদক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে শরীফ উদ্দিনকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। সেই আদেশে বলা হয়, ‘দুর্নীতি দমন কমিশন (কর্মচারী) বিধিমালা-২০০৮ এর বিধি ৫৪ (২)তে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে মো. শরীফ উদ্দীন, উপ-সহকারী পরিচালক, দুদক, সমন্বিত জেলা কার্যক্রম, পটুয়াখালীকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হলো। তিনি বিধি মোতাবেক ৯০ দিনের বেতন এবং প্রযোজ্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন।’ তবে সেই নোটিশে চাকরিচ্যুত করার নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি। বিষয়টি আর খোলাসা করাও হয়নি। তাকে চাকরি ফেরত দিতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় মানববন্ধন ও সমাবেশ হয়েছে। জাতীয় সংসদেও তার বিষয়টি নিয়ে কথা হয়েছে। এমনকি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দুদক কর্মকর্তারা তার জন্য মাঠে নেমেছিলেন। এতোকিছুর পরও চাকরি ফেরত পাননি শরীফ উদ্দিন।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আরো বিভন্ন নিউজ দেখুন
© All rights reserved © 2021 somoybanglatv.com
Theme Customization By Monsur Alam