রাজনীতির মাঠে আদর্শিক, ত্যাগী, দলের নিবেদিতপ্রাণ কর্মীরা আজ বড় অসহায়

রিপোটার পরিচিতি :
  • আপডেট সময় : সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২০

আজিজ খান:

রাজনীতির মাঠে আদর্শিক,ত্যাগী, দলের নিবেদিত কর্মীরা বড়ই অসহায়। সব জায়গায় হযবরল অবস্থা। সবাই ক্ষমতা নিয়ে ব্যস্ত। কারো নিকট দল ও দেশ নিয়ে কোন চিন্তা ভাবনা নাই।সবাই খায় খায় ভাব নিয়ে আছে।নিজের পদ বাচানোর জন্য যা করতে হয় তা সবটুকু করে যাচ্ছে। চামচামি,বাসা হাজিরা,তেল মালিশ,জি হুজুর বলে পদ আকড়িয়ে আছে। এসব অযোগ্য অথর্ব লোকেরা কেন্দ্রীয়,জেলা,উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত। যাদেরও কাছ থেকে দল কিছুই পাবেনা তারাই ক্ষমতার হর্তাকর্তা। মানুষ,দল আর দেশের কল্যানে তাদের নিকট মুখ্য নয় ক্ষমতা ,টাকা হল তাদের নিকট মুখ্য।

অল্প কিছু দেশপ্রেমিক আদর্শিক যোদ্ধা দেশ ও দলের জন্য ভালো কিছু করার চিন্তা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু তারা ভালো পদ কিংবা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে নাই। বেশির ভাগ অযোগ্য অথর্ব, তেল আর চামচাবাজ লোক ভালো পদে বসে আছে সেখানে মেধাবী যোগ্যরা অসহায়। সমাজ, দলে কোথাও যোগ্যরা স্থান পাচ্ছে না।
তারা লড়াই সংগ্রাম করে ঠিকে থাকলেও পেরিয়ে উঠতে পারছে না।
রাজনীতির পদের জন্য প্রতিদিন নেতার বাসায় হাজিরা,অসংখ্য মিথ্যা কথা বলা,অন্যের সমালোচনা করা,বাসায় কাজ কর্ম করা,গিফট নিয়ে যাওয়া,নেতার আস্থাশীল হয়ে বিভিন্ন তদবির করা আজ ফ্যাশনে পরিনত হয়েছে, এমনকি ভালো পদবি পেয়ে যায়।আর যারা আজীবন দলের জন্য নিবেদিত, ত্যাগী,আদর্শিক,মেধাবী তারা যে লাউ সে কদুর মত রয়ে যায়।তাদের কেউ মুল্যায়ন করেনা।
কেনবা করবে তাদের নেই কোন পদ, নেই কোন টাকা, নেই কোন ক্ষমতা।

তারা অযোগ্য অথর্ব লোকের ক্ষমতার অপব্যবহার দেখে প্রতিবাদ করতে পারেনা।সব কিছু দেখে না দেখার ভান করে যায়। মনে মনে বলে আরে ক্ষমতা, আরে টাকা তুই কি সব,তুই কি সব করবি।আমাদের সেই অতীত স্মৃতি,ত্যাগ,লড়াই,সংগ্রাম আজ বড়ই বেমানান। আমরা আজ বড়ই অসহায়। তবুও আমরা আদর্শের পথে অটল আছি,থাকব। আমাদের জয় হবে ইনশাআল্লাহ।

সব জায়গায় হাইব্রিড,চামচা,অযোগ্য,দলচ্যুত ব্যক্তিরা লাভবান।সবকিছু তারা নিয়ন্ত্রণ করে যাচ্ছে। তাদের আছে নেতা,এমপি,মন্ত্রী আর টাকা। তারা সব সময় ক্ষমতা ভোগী। তারা দুর্নীতি করে যায়।অজস্র টাকা আর ক্ষমতার মালিক, কিন্তু দেখবে তাদের ঘরে নেই কোন শান্তি। ছেলে মেয়ে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত। সারাক্ষণ তারা চিন্তায় অস্থির। রাতে ঘুম হয়না।আশ্রয় নিতে হয় নামকরা হাসপাতালে চিকিৎসা।

ত্যাগী,আদর্শিক,মেধাবী,দলের নিবেদিত কর্মীরা হল দলের প্রান।তাদের মেধা,শ্রম,ত্যাগের কারণে দল ক্ষমতায়। তারা লড়াই,সংগ্রাম আর মামলা হামলার স্বীকার হয়ে জেল-জুলুম নির্যাতনের করে দলকে শুধু দিয়েছে। নেওয়ার বেলায় তারা অবলা।তাদেরকে যথাযথ মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করা দরকার। তাদেরকে সব জায়গায় গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত করলে দল লাভবান হবে। মানুষ ও দলের মর্যাদা বাড়তে হলে আসল লোকজন সঠিক জায়গায় বসাতে হবে তাহলে দল ঠিকে থাকবে, মানুষের আস্থা পাবে।

ত্যাগী ও আদর্শিক লোকেরা পাওয়ার আশায় কিছু করেনা। তারা সব সময় জাতির পিতার আদর্শের সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগকে ভালবেসে জননেত্রী শেখ হাসিনার আধুনিক বাংলা গঠনে কাজ করে যাচ্ছে। তাদের নিকট দল হচ্ছে আসল। দলের ভালো কিছু হোক সেটা তাদের কামনা। দল তাদেরকে কিছুই না দিলেও তারা নদীর স্রোতের মত প্রবাহিত হয়ে কাজ করে যাবে। দেশ ও দলের জন্য ভালো কিছু করা হল আসল কাজ।

কারো দয়া মায়া,পাওয়া,ক্ষমতা,টাকা এসব কিছুর তারা তোয়াক্কা   করেনা। আজীবন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রেমিক হিসাবে কাজ করে যাবে।
তবুও ত্যাগী,মেধাবী,আদর্শিক লোকদের সঠিক জায়গায় মুল্যায়ন করা অতীব জরুরী। কেননা তাদেরকে যদি সঠিক জায়গায় বসানো না হয় তাহলে দলের অবস্থা দিনিদিন করুন হবে আর অযোগ্য লোকেরা সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করবে। দল মেধাহীন আর জনশূন্য দলে পরিনত হবে যা বলার অপেক্ষা রাখেনা।

আজিজ খান
সদস্য, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ
জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা উপ কমিটি ৷

এই সংবাদটি শেয়ার করার দায়িত্ব আপনার

এই ক্যাটাগরীর অন্যান্য সংবাদ সমূহ