কক্সবাজার জেলায় নকল ব্যান্ডরোল ও ব্যান্ডরোলবিহীন বিড়ি-সিগারেটে বাজার সয়লাব

রিপোটার পরিচিতি :
  • আপডেট সময় : সোমবার, ১৪ অক্টোবর, ২০১৯

সরকার হারাচ্ছে কোটি টাকার রাজস্ব, নজর নেই ভ্যাট কর্মকর্তাদের
কক্সবাজার জেলায় নকল ব্যান্ডরোল ও ব্যান্ডরোলবিহীন বিড়ি-সিগারেটে বাজার সয়লাব
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
কক্সবাজার জেলার প্রায় প্রতিটি হাট বাজারে নকল ব্যান্ডরোল ও ব্যান্ডরোল বিহীন বিড়ি সিগারেটে সয়লাব হয়ে গেছে। কর্তৃপক্ষের চোখ ফাঁকি দিয়ে কিছু অসাধু বিড়ি কোম্পানি এসব অবৈধ ব্যবসা করে লুটে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। আর এ দিকে সরকার হারাচ্ছে বছরো কোটি কোটি টাকার রাজস্ব। জানা যায়, কক্সবাজার জেলার গর্জনিয়ার কাউয়ারকুপ বাজার সহ আশেপাশের এলাকা, কক্সবাজার সদরের চৌফলদন্ডী বাজার, মুসলিম বাজার, গজালিয়া বাজার, বোয়ালখালী, বাইশারী কালির ছড়া বাজার, মামুন মিয়ার হাট, আনুর দোকান, খুটাখালী বাজার, নতুন অফিস বাজার, হারগাজা, চকরিয়ার কৈয়ারবিল, মহেশখালীর মাতারবাড়ী, শাপলাপুর, মোহরাকাটা সহ পেকুয়ার প্রায় সকল বাজারে এসব অবৈধ বিড়ি সিগারেট পাওয়া যাচ্ছে। শত শত সেলস ম্যান দিয়ে বিভিন্ন অখ্যাত কোম্পানি এসব বিড়ি সিগারেট নীতিমালার তোয়াক্কা না করে তাদের বিড়ি সিগারেট বাজারজাত করে আসছে বলে অভিযোগ সচেতন মহলের। আর এসব নকল ও অনুমোদনহীন কোম্পানির বিড়ি সিগারেট খেলে স্বাস্থ্যের চরম ঝুঁকি আছে বলে জানালেন জেলা বিড়ি ভোক্তা কমিটির সভাপতি। রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ি ২৫ শলাকা বিড়ির প্যাকেটের জন্য ব্যান্ড রোলের মুল্য ৭ টাকা ৮৪ পয়সা আর ২৫ শলাকা বিড়ি তৈরীতে মালিকের খরচ হয় প্রায় ৪.৫০ পয়সা। হিসাব অনুযায়ি এক প্যাকেট বিড়ি বাজারজাত করার খরচ পড়ে ১২ টাকা ৩৪ পয়সা। এ জন্য সরকারী ভাবে এক প্যাকেট বিড়ির মুল্য নিধর্:ারন করেন ১৪ টাকা। আর এর থেকে সরকার রাজস্ব আয় করে ৭ টাকা ৮৪ পয়সা। আর নকল ব্যান্ডরোল দিয়ে বাজারজাত করা বিড়ির মুল্য খরচ শুধু মাত্র ৪.৫০ পয়সা । তারা সরকারকে প্যাকেট প্রতি রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে ৭.৮৪ পয়সা। সে ক্ষেত্রে অখ্যাত ও নকল ব্যান্ডরোল দিয়ে বিড়ি কোম্পানিগুলো বছরে শত শত কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে। অন্য দিকে সিগারেট কোম্পানিগুলোর ও একই অবস্থা। নকল ব্যান্ডরোল দিয়ে যে সমস্থ বিড়ি বর্তমানে বাজারজাত করা হচ্ছে সেগুলো হচ্ছে- মিনহাজ বিড়ি, মেরাজ বিড়ি, ৮ নং আবুল বিড়ি, মাসুদ বিড়ি ও সোনালী বিড়ি। আর যে সমস্থ সিগারেট বাজারজাত করা হচ্ছে সেগুলো হচ্ছে ডুবাই সিগারেট, রমনা ব্লাক সিগারেট, সিটি গোল্ড সিগারেট, এক্সপ্রেস সিগারেট ও পি-কক সিগারেট। এসমস্থ অখ্যাত কোম্পানির বিড়ি সিগারেট যেমন রয়েছে চরম স্বাস্থ ঝুঁকি তেমনি সরকার হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব। ভোক্তা অধিকার সংগঠন গুলো এদের বিরুদ্ধে কঠোর ভাবে আইন প্রয়োগের দাবি করেন। আবার অনেকের অভিযোগ, কিছু ভ্যাট কর্মকর্তার যোগসাজসে উক্ত অবৈধ কোম্পানিগুলো তাদের এ অনৈতিক কাজ ও ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে কক্সবাজার জেলা ভ্যাট ও কাস্টমস্ কর্মকর্তা নু চ পু বলেন, বিষয়টি আমাদের কানে এসেছে। এবং আমরা খুব শিঘ্রই এ বিষয়ে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি।

এই সংবাদটি শেয়ার করার দায়িত্ব আপনার

এই ক্যাটাগরীর অন্যান্য সংবাদ সমূহ