চট্টগ্রাম আগ্রাবাদে ফ্ল্যাট ‘বন্ধকের’ নামে অভিনব প্রতারণা আবু বক্করের

সময় বাংলা অনলাইন ডেস্ক ●
  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

ফ্ল্যাট বন্ধকের নামে প্রতারণা করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আবু বক্কর নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। একই ভবন একাধিক ব্যক্তির কাছে বন্ধক রাখার নাম করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে লাভ ও মূল টাকার কোনটাই পরিশোধ করছেন না ওই ব্যক্তি।

 

ভুক্তভোগীদের বক্তব্য ও কাগজপত্র দেখে  জানা যায়, ভবন বা ফ্ল্যাটের মালিক একই ফ্ল্যাট একাধিক ব্যক্তির কাছে বন্ধক রেখেছেন। এককালীন নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিয়ে কয়েক বছরের জন্য মালিকের কাছ থেকে ফ্ল্যাটটি বসবাসের জন্য নেন দ্বিতীয় পক্ষ। এ নিয়ে দলিল করা হয়। শর্ত থাকে, চুক্তি শেষ না হওয়া পর্যন্ত দ্বিতীয় পক্ষ উপস্বত্ব হিসেবে ফ্ল্যাটের ভাড়া ভোগ করবেন এবং বৈদ্যুতিক, গ্যাস, ওয়াসা বিল ও সরকারী হোল্ডিং টেক্স, খাজনা প্রথম পক্ষ পরিশোধ করবেন । চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে মালিক এককালীন পাওয়া ওই পুরো অর্থ ব্যবহারকারীকে ফেরত দেবেন। এভাবে মালিক যেমন একসঙ্গে প্রয়োজনীয় অর্থ পান, তেমনি বন্ধক নেওয়া ব্যক্তি পরিষেবা বিল দেওয়া ছাড়া দ্বিতীয় পক্ষ উপস্বত্বে সকল সুবিধা ভোগ করবেন। মালিক অর্থ ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত ব্যবহারকারীরা ফ্ল্যাটটি ছাড়েন না। সে ক্ষেত্রে নতুন চুক্তিও করা হয় কোনো কোনো ক্ষেত্রে।

 

কিন্তু এই পুরো বিষয়টিকে পুঁজি করে বর্তমানে একই ফ্ল্যাট একাধিক ব্যক্তির কাছে বন্ধক দিয়ে সুবিশাল প্রতারণার ফাঁদ পেতেছে চট্টগ্রামের উত্তর আগ্রবাদস্থ পানওয়ালা পাড়া এলাকার বাসিন্দা আবু বক্কর সিদ্দীক নামের এক প্রতারক। তার প্রতারণার শিকার হয়ে অনেকে এখন পথে বসার উপক্রম ।

 

ভুক্তভোগীরা জানান, লাভের টাকা তো দূরের কথা, মূল টাকাই ফেরত দিচ্ছেন না মালিক । বরং তিনি রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে এলাকায় দাপিয়ে বেড়ান এবং প্রতারিতদের হুমকি ধমকি দেন । তারা বলেন, দলিল ঠিক থাকলেও একই রকম কাগজ রয়েছে একাধিক ব্যাক্তির কাছে। ফলে কোন কাজে আসছে না তাদের ওই দলিল। লাভের আশায় টাকা দিয়ে তারা এখন বিপদে পড়েছেন।

 

হাটহাজারীর সমিতির হাটস্থ এলাকার মোহাম্মদ জাহেদ নামে একজন ভুক্তভোগী জানান, আমি ৬ লক্ষ টাকা দিয়েছি। কথা ছিল, দুটি ফ্ল্যাটের প্রতি ফ্ল্যাটের ১০ হাজার টাকা করে ২০ হাজার টাকা প্রতিমাসে আমাকে দেওয়া হবে এবং যতদিন তিনি মূল টাকা দিতে পারবেন না, ততদিন নিয়মিত ওই ২০ হাজার টাকা আমি পাব। অথচ প্রথম দুই মাসে বিশ হাজার টাকা করে ৪০ হাজার টাকা এবং তারপরের মাসে ১৫ হাজার টাকাসহ মোট ৫৫ হাজার টাকা দিয়েই এ পর্যন্ত আর কোন টাকা দেননি। টাকা চাইলে হুমকি ধমকি দেন।

 

আগ্রাবাদস্থ পানওয়ালা পাড়ার মোঃ হোসেন নামে আরেকজন ভুক্তভোগী বলেন, আমি ৭ লক্ষ টাকা দিয়েছি। কথা ছিল, মূল টাকা আদায় না হওয়া পর্যন্ত  মাসে মাসে  দুইটি ফ্ল্যাটের ভাড়া আমাকে দেওয়া হবে। অথচ এখন লাভ তো দূরের কথা, মূল টাকাই দিচ্ছেন না।

একইভাবে কোতোয়ালি থানাস্থ এলাকার ছায়েদুল হক নামের এক ব্যক্তিও ৫ লক্ষ টাকা বক্করকে দিয়েছেন। তার বক্তব্যও প্রায় প্রথম দুইজনের মতোই।

 

ভুক্তভোগীরা আরো অভিযোগ করে বলেন, ফ্ল্যাটটি বন্ধক দেওয়ার সময় ভবনটির নাম ছিল “বক্কর প্যালেস”।  পাওনাদারদের বোকা বানানোর জন্য ভবনটির নাম পরিবর্তন করে এখন করা হয়েছে “জাহান ম্যানসন”। এটিও প্রতারণা করে পার পাওয়ার আরেকটি কৌশল বলছেন প্রতারিতরা।

 

বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি বক্করের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। কেউ আমার ফ্ল্যাট বন্ধক নেয়নি। তিনি ফ্ল্যাট বন্ধক দিয়েছেন এবং তার ডকুমেন্টস আমাদের হাতে রয়েছে এমন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলে, তিনি তার কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।

 

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে ডবলমুরিং থানায় একাধিকবার  অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ করা হয় বলে ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়। থানা পুলিশও একাধিকবার মিমাংসা করে দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু মালিক টাকা দেওয়ার ব্যাপারে আন্তরিক না হওয়ায় কাজের কাজ কিছুই হয়নি বলে জানান প্রতারিতরা।

 

এ বিষয়ে ডবলমুরিং থানার ওসির কাছে গেলে তিনি কর্তব্যরত এস,আই কাইছার হামিদের সাথে কথা বলতে বলেন, এস, আই কাইছার হামিদ বলেন, থানায় মামলা হলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

এই সংবাদটি শেয়ার করার দায়িত্ব আপনার

এই ক্যাটাগরীর অন্যান্য সংবাদ সমূহ


নুরুল বশর উখিয়া।

উখিয়া উপজেলার পালংখালী বাজারসংলগ্ন খালটি অবৈধ দখলে নাব্যতা হারাচ্ছে। অদূর ভবিষ্যতে খাল, টি বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। তবে এবিষয়ে ভূমি অফিস বলছে, খাল টির অবৈধ দখলদারদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। আইনি জটিলতা সমাধান করে উচ্ছেদ অভিযানের পদক্ষেপ নেয়া হবে। তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, নদীবেষ্টিত ছিলেন এক সময় খালটি।পালংখালী বাজারের বুক চিড়ে বয়ে গেছে একটি খাল। স্থানীয় ভাষায় যাকে নারাংখালী খাল বলে এ খালটি দিয়ে গয়াল মারা মুছার খুলা থেকে দশটি গ্রামের পানি বয়ে আসে বর্ষা মৌসুমে। ওই সব এলাকার ফসলি জমির সেচের উৎসও একমাত্র খালটি। খালের প্রবেশদ্বার থেকে শুরু করে উত্তর-দক্ষিণ দিকে দেড় কিলোমিটারেরও বেশি জায়গায় গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা। প্রায় খালের অর্ধেক দখল করে এমনভাবে অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে, যা সবার জন্য উদ্বেগজনক। অবৈধ দখলদারের তালিকায় রয়েছে ১০০ জনেরও বেশি। তারা সবাই খালের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা দোকান তৈরি করে ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালাচ্ছে। এদের মধ্যে কেউ পাকা পিলার আবার কেউ কাঠের খুঁটি দিয়ে স্থাপনা তৈরি করেছে। বাজারসংলগ্ন খালটি পূর্ব-পশ্চিমমুখী। খালের প্রায় অর্ধেক দখল করে দোকান তুলে ব্যবসা করছে দখলদাররা। এর ফলে পানি কমে গিয়ে খালটি নাব্যতা হারাচ্ছে এবং বাজারের ময়লা আবর্জনায় বরে যাচ্ছে একসময়ে এসব খাল মরা খালে পরিণত হবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। পালংখালী বাজার কমিটি সভাপতি কামাল উদ্দিন জানান, ৫০ বছরের আগে জনস্বার্থে ওজু, গোসল, প্রয়োজনীয় পানি ব্যবহার করেছিলেন ব্যক্তিগত উদ্যোগে। বর্তমানে সেই খালে পিলার বসিয়ে পাকা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী হাজী মোঃ শফিক জানান, একসময়ে খালটি অনেক বড় ছিল। কিন্তু দখল দূষণের কারণে খালটি ছোট হয়ে গেছে। এ খালের পানির চলাচলের কারণে ফসলি জমিতে যে পলিমাটি পড়ত তাতে জমির উর্বরতা বৃদ্ধি পেয়ে ফসল অনেক বেশি হতো। কিন্তু বর্তমানে সে রকম পলিমাটি না পড়ায় ফসলও আগের চেয়ে অনেক কম হচ্ছে। পালংখালী বাসিন্দা সফিউল্লাহ তুহিন জানান, খালের পাড়ে দোকান রয়েছে অনেকেরই। তবে অনেকেই সীমাবদ্ধতা না রেখে দোকান তুলেছে। কয়েকজন খালের মধ্যে পিলার দিয়ে দোকান তুলেছে, যা মোটেও ঠিক নয়। শাহাদাৎ হোসেন জুুুয়েল নামে এক প্রবীণ ব্যক্তি বলেন, খালের উপর দোকান নির্মাণ জমিদার পরিচয় দিচ্ছে অনেক এ আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে। বেশ কিছু দখলদার অবৈধভাবে খালের পাড় দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। অবৈধ দখলদারদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। জমিসংক্রান্ত আইনি জটিলতা থাকলে তা সমাধান করে উচ্ছেদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে শীগ্রই।

কক্সবাজারে পালংখালী বাজারের খালটি দুইপাশের দোকানে গিলে খাচ্ছে বিলীন হইতে যাচ্ছে খাল

শোক সংবাদ……. শোক সংবাদ!

মাহমুদা আকতার মালাঃ 

নোয়াখালী জেলা মহিলা দলের সহ-সাধারণ সম্পাদক ও চাটখিল উপজেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সহ-সভাপতি চাটখিল উপজেলার ৫নং মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড (হাওড়া, হরিপুর,বানসা, কামালপুর,শোল্যা,বাবুপুর,যষোড়া) সংরক্ষিত আসনের মহিলা মেম্বার জনাবা আলেয়া বেগম এর স্বামী মোঃ রহমত উল্লাহ (মেডিকেল এসিস্ট্যান্ট) আজ সকালে ০৮:৩০ মিনিটের সময় ঢাকা পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরন করেন ইন্না-লিল্লাহ ওয়াইন্নাইলাহে রাজিউন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পরিবারের পক্ষ থেকে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।

নোয়াখালী জেলা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সহযোদ্ধা স্বামীর মৃত্যু