কক্সবাজার জেলা কারাগারের অনিয়ম-দূর্নীতির খতিয়ান।

রিপোটার পরিচিতি :
  • আপডেট সময় : বুধবার, ৯ জানুয়ারী, ২০১৯

সিট বানিজ্যে সব ছাড়িয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
কারাগার হাসপাতালে সিট বানিজ্য, ওয়ার্ডে সিট বানিজ্য, পিসি বানিজ্য, ঔষুধ বানিজ্য, রাইটার বানিজ্য, কারাগার বদলীর মিথ্য ভয় দেখিয়ে অনেকের কাছ থেকে টাকা আদায়, ক্যাশ টেবিল নামক মানবাতা বিবর্জিত কান্ড, নিন্মমানের খাবার সাপ্লাই, মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ইয়াবাব্যবসায়ীদের কারাগারের ভিতর মোবাইল ব্যবহারের সুযোগ সহ এমন কোন বানিজ্য নেই যা জেল সুপারের নির্দেশে হয়না। এমনকি টাকা দিলে মিলে মাদক ও বন্দী নির্যাতন, অনিয়ম-দুর্নীতি, মাদক বাণিজ্য থেকে শুরু করে নানা রকম অপরাধের আখড়ায় পরিণত হয়েছে কক্সবাজার জেলা কারাগারে । ঘাটে ঘাটে টাকা দিয়ে দাগি অপরাধীরা নিয়ন্ত্রণ করছে কারাগারের সব কিছু। উন্নত খাবার, স্বজনদের একান্ত সাক্ষাৎ, অভিজাত জীবনযাপন, সুস্থ হয়েও হাজতি-কয়েদিদের মাসের পর মাস হাসপাতালে অবস্থানসহ এসবই চলছে অহরহ। টাকার জোরেই কুখ্যাত দাগি সন্ত্রাসী, ইয়াবা ব্যবসায়ী, মানবপাচারকারী, চোরাচালানি, রোহিঙ্গা এমনকি মাদক ব্যবসায়ীরাও কারাগারে বিলাসী জীবনযাপন করছে। জেলে বসেই হচ্ছে বড় বড় অপরাধ পরিকল্পনা। সেখানকার নির্দেশনাতেই বাইরে খুনোখুনি ঘটছে, চলছে চাঁদাবাজি, অপহরণ, লুটপাটসহ নানা রকম অপরাধ তৎপরতা। অবশ্য এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে জেলা কারা কর্তৃপক্ষ। সুত্র মতে, টাকা ছাড়া কিছুই হয় না কক্সবাজার কারাগারে। এই কারাগারে ইট-বালু, চেয়ার-টেবিল, সব কিছুতেই টাকা চায়। অফিসার, পিয়ন, দারোয়ান থেকে দালাল পর্যন্ত সবার নজর পকেটের দিকে, খোঁজে শুধু টাকা। কারাবন্দিদের সাক্ষাৎ পেতে প্রতিদিন কারা গেটে হাজির হন পাঁচশতাধিক দর্শনার্থী। কিন্তু দালাল চক্রের হাতে টাকা না দিয়ে কারাগারের বাইরের প্রধান গেইট পেরিয়ে যাওয়ার কোনো উপায় নেই। ভিতরে টাকা, বাইরেও টাকা। আসামি দেখতে টাকা লাগে, খাবার দিতে টাকা লাগে, আসামির আরাম-আয়েশ নিশ্চিত করতেও লাগে মোটা অঙ্কের টাকা এমনকি দর্শনার্থীদের মোবাইল জমা রাখার জন্যও লাগে টাকা। মোট কথা , প্রতিমাসে জেল সুপারের মাসিক অনিয়ম আয় ২০ লাখ টাকা বলে অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানি প্রতিবেদনের আজকের পর্বে থাকছে সিট বানিজ্য নিয়ে।
বর্তমানে ধারন ক্ষমতার চেয়ে প্রায় দশগুন কয়েদী অবস্থান করছে। ৪০০০ এর ও অধিক কয়েদিতে ঠাঁশা কক্সবাজার জেলা কারাগার এখন অনিয়মের মাধ্যমে টাকা কামানোর মেশিন বলেও জানান জেল ফেরত আসামীরা। গরুর মতো কয়েদি বেচা বিক্রি হয় পিসির মাধ্যমে। ঠাশা কয়েদিরা নিজেকে কিছুটা রক্ষা করতে পেতে চায় সামান্য থাকার যায়গা।এজন্য টাকা দিয়ে কিনে নিতে হয় নড়াচড়ার জায়গাটুকু। তাছাড়া জেলে ঢুকতে টাকা না দিলে ইলিশ ফাইল কপালে জুটবেই। এ ছাড়াও কারা হাসপাতাল, রান্নাঘর (চৌকা), দর্জিদফা, বাগানদফা, ও কারাক্যান্টিনসহ সুবিধাজনক বিভিন্ন দফায় কাজ দিতে হাজতী-কয়েদীদের কাছ থেকে প্রতিমাসে মোটা অংকের টাকা আদায় করে কর্মকর্তারা। এসবের মধ্যে সবচেয়ে লোভনীয় পদ হল বন্দী ওয়ার্ডের “মেট”। সশ্রম সাজাপ্রাপ্ত কয়েদীরা বিভিন্ন ওয়ার্ডের মেট হওয়ার জন্য কর্মকর্তাদের সাথে মোটা অংকের চুক্তি করে। উপরোক্ত সব দফা ও পদ প্রতিমাসে নবায়ন করতে হয়। ওয়ার্ডে সিট বানিজ্যের জন্য মেট নামক একধরনের দালালের নাম। এ মেটরাই ওয়ার্ডে সিট বানিজ্যের প্রধান। যারা কম আদায় করে পরবর্তী মাসে তাকে আর মেটও রাখেনা। মাস পর পর এর মুল্যায়ন।
তাছাড়া কারা হাসপাতালের অবস্থা আরো নাজুক, দুশরও অধিক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের দখলে কারা হাসপাতাল। এ বানিজ্য সবাইকে ছাড়িয়ে যায়। ৫০ জনের হাসপাতালে আছে প্রায় তিন শতাধিক মানুষ। এদের কেউ রোগী নয়। যে কজন রোগী আছে তাদের সিট কিন্তু বেডে নয়। বারান্ধার ফ্লোরে। কোন মতে না মরে বেচে আছে। হাসপাতালে থাকার জন্য ইয়াবা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নেওয়া হয় মাসে ১৫ থেকে ক্ষেত্র বিশেষে ২৫ হাজার টাকা। সে হিসাবে শুধু কারা হাসপাতালে অনিয়মের আয় হয় মাসে ৩০ লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকা। জেল ফেরত চকরিয়া ঢেমুশিয়ার আমিন বলেন, দেশের সবচেয়ে মানুষ নির্যাতনের ও অনিয়মের স্থান কক্সবাজার জেলা কারাগার। টাকা ছাড়া সেখানে কিছুই বুঝেনা। অসহায়দের সেখানে এক প্রকার জাহান্নাম।
এ বিষয়ে জানার জন্য কক্সবাজার জেলা কারাগার এর জেল সুপার মোঃ বজলুর রহমান আখন্দ বলেন, শ্লিপের জন্য কোন টাকা নেয়না, আর নিলেও আমি জানিনা। তাছাড়া মোবাইলের জন্য ৫ টাকা করে নেওয়া হয়, যা কারাগারের কমন ফান্ডে জমা হয়। কিন্তু রশিদ ছাড়া কি ভাবে ঐ টাকার হিসাব পাবে জানতে চাইলে তার কোন উত্তর দেয়নি।

এই সংবাদটি শেয়ার করার দায়িত্ব আপনার

এই ক্যাটাগরীর অন্যান্য সংবাদ সমূহ


নুরুল বশর উখিয়া।

উখিয়া উপজেলার পালংখালী বাজারসংলগ্ন খালটি অবৈধ দখলে নাব্যতা হারাচ্ছে। অদূর ভবিষ্যতে খাল, টি বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। তবে এবিষয়ে ভূমি অফিস বলছে, খাল টির অবৈধ দখলদারদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। আইনি জটিলতা সমাধান করে উচ্ছেদ অভিযানের পদক্ষেপ নেয়া হবে। তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, নদীবেষ্টিত ছিলেন এক সময় খালটি।পালংখালী বাজারের বুক চিড়ে বয়ে গেছে একটি খাল। স্থানীয় ভাষায় যাকে নারাংখালী খাল বলে এ খালটি দিয়ে গয়াল মারা মুছার খুলা থেকে দশটি গ্রামের পানি বয়ে আসে বর্ষা মৌসুমে। ওই সব এলাকার ফসলি জমির সেচের উৎসও একমাত্র খালটি। খালের প্রবেশদ্বার থেকে শুরু করে উত্তর-দক্ষিণ দিকে দেড় কিলোমিটারেরও বেশি জায়গায় গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা। প্রায় খালের অর্ধেক দখল করে এমনভাবে অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে, যা সবার জন্য উদ্বেগজনক। অবৈধ দখলদারের তালিকায় রয়েছে ১০০ জনেরও বেশি। তারা সবাই খালের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা দোকান তৈরি করে ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালাচ্ছে। এদের মধ্যে কেউ পাকা পিলার আবার কেউ কাঠের খুঁটি দিয়ে স্থাপনা তৈরি করেছে। বাজারসংলগ্ন খালটি পূর্ব-পশ্চিমমুখী। খালের প্রায় অর্ধেক দখল করে দোকান তুলে ব্যবসা করছে দখলদাররা। এর ফলে পানি কমে গিয়ে খালটি নাব্যতা হারাচ্ছে এবং বাজারের ময়লা আবর্জনায় বরে যাচ্ছে একসময়ে এসব খাল মরা খালে পরিণত হবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। পালংখালী বাজার কমিটি সভাপতি কামাল উদ্দিন জানান, ৫০ বছরের আগে জনস্বার্থে ওজু, গোসল, প্রয়োজনীয় পানি ব্যবহার করেছিলেন ব্যক্তিগত উদ্যোগে। বর্তমানে সেই খালে পিলার বসিয়ে পাকা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী হাজী মোঃ শফিক জানান, একসময়ে খালটি অনেক বড় ছিল। কিন্তু দখল দূষণের কারণে খালটি ছোট হয়ে গেছে। এ খালের পানির চলাচলের কারণে ফসলি জমিতে যে পলিমাটি পড়ত তাতে জমির উর্বরতা বৃদ্ধি পেয়ে ফসল অনেক বেশি হতো। কিন্তু বর্তমানে সে রকম পলিমাটি না পড়ায় ফসলও আগের চেয়ে অনেক কম হচ্ছে। পালংখালী বাসিন্দা সফিউল্লাহ তুহিন জানান, খালের পাড়ে দোকান রয়েছে অনেকেরই। তবে অনেকেই সীমাবদ্ধতা না রেখে দোকান তুলেছে। কয়েকজন খালের মধ্যে পিলার দিয়ে দোকান তুলেছে, যা মোটেও ঠিক নয়। শাহাদাৎ হোসেন জুুুয়েল নামে এক প্রবীণ ব্যক্তি বলেন, খালের উপর দোকান নির্মাণ জমিদার পরিচয় দিচ্ছে অনেক এ আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে। বেশ কিছু দখলদার অবৈধভাবে খালের পাড় দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। অবৈধ দখলদারদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। জমিসংক্রান্ত আইনি জটিলতা থাকলে তা সমাধান করে উচ্ছেদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে শীগ্রই।

কক্সবাজারে পালংখালী বাজারের খালটি দুইপাশের দোকানে গিলে খাচ্ছে বিলীন হইতে যাচ্ছে খাল

শোক সংবাদ……. শোক সংবাদ!

মাহমুদা আকতার মালাঃ 

নোয়াখালী জেলা মহিলা দলের সহ-সাধারণ সম্পাদক ও চাটখিল উপজেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সহ-সভাপতি চাটখিল উপজেলার ৫নং মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড (হাওড়া, হরিপুর,বানসা, কামালপুর,শোল্যা,বাবুপুর,যষোড়া) সংরক্ষিত আসনের মহিলা মেম্বার জনাবা আলেয়া বেগম এর স্বামী মোঃ রহমত উল্লাহ (মেডিকেল এসিস্ট্যান্ট) আজ সকালে ০৮:৩০ মিনিটের সময় ঢাকা পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরন করেন ইন্না-লিল্লাহ ওয়াইন্নাইলাহে রাজিউন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পরিবারের পক্ষ থেকে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।

নোয়াখালী জেলা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সহযোদ্ধা স্বামীর মৃত্যু